ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসার নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ২০২৩

ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা কি ? ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসার নিয়ম জানুন… 

ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসার আবেদনের নিয়ম

আপনারা যারা বাই রোডে ভুটান বা নেপাল যেতে চাচ্ছেন তাদের জন্য দরকার হচ্ছে ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা।
ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার আবেদনের প্রক্রিয়া সব প্রায় টুরিস্ট ভিসা আবেদনের মতই, তবে দুটো ডকুমেন্ট এক্সট্রা লাগে।

ট্রানজিট ভিসা কি?

  • ট্রানজিট ভিসা হচ্ছে একটা দেশের মধ্য দিয়ে অন্য একটা দেশে যাওয়ার সময় স্বল্প সময় ওই দেশে থাকার অনুমতি। এটা দেশভেদে কয়েক ঘন্টা থেকে শুরু করে কয়েক দিন পর্যন্ত হতে পার।
অনেক দেশ অন্য দেশের ভিসা ও এয়ার টিকেট কনফার্ম থাকলে তাদের দেশে কয়েকদিনের বা কয়েক ঘন্টার জন্য ট্রানজিট ভিসা ইস্যু করে যাতে যাত্রীরা ওই শহর ঘুরে দেখতে পারে।
  • যেমন দেখা গেল আপনি যাচ্ছেন আমেরিকা মাঝে আপনার ফ্লাইট বিরতি নিচ্ছে তুর্কিতে আর এমন সময় ফ্লাইট পেছানো হল কয়েক ঘন্টা।
এমন ক্ষেত্রে আপনি কয়েক ঘন্টার জন্য ট্রানজিট ভিসা পেতে পারেন যাতে আপনি এয়ারপোর্টে অপেক্ষা না করে ওই শহর ঘুরে দেখতে পারেন।
  • আবার যেমন আমরা যারা বাইরোডে ভুটান বা নেপাল যাই ইন্ডিয়ার মধ্য দিয়ে তাদেরকে ইন্ডিয়ার ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়।
এ ভিসা ১৫ দিন মেয়াদি দেয়া হয় আর প্রতিবার ইন্ডিয়ায় ঢুকে সর্বোচ্চ ৩ দিন থাকা যাবে ৩ দিনের মাঝেই আমাকে ইন্ডিয়া ত্যাগ করতে হবে।
  • মনে রাখবেন! একটা বিষয় মনে রাখুন যে আপনি ইন্ডিয়ার মধ্য দিয়ে অন্য দেশে যেতে ও সে দেশ থেকে আবার আগের দেশে ফিরে আসতে হলে আপনাকে ডাবল এন্ট্রি ট্রানজিট ভিসা নিয়ে যেতে হবে।
সাধারণ টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আপনি যেতে পারবেন না। আর কোনভাবে যদি অন্য দেশ মানে ভুটান বা নেপালে এন্ট্রি নিয়েও থাকেন পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান ভিসা না পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯%।
  • কারণ ভুটান ও নেপালের বর্ডারে ওরা অত বেশি চেক করে না, আপনি শুধু ওদের ইমিগ্রেশনে যেকোনভাবে পৌছাতে পারলেই এন্ট্রি দিয়ে দেয়।
তবে পরে ইন্ডিয়া থেকে দেশে আসার সময় চেক করলেও ঝামেলা হবে আর পরবর্তি ভিসা আবেদনে ভিসাও পাবেন না। তাই বাই রোডে ইন্ডিয়ার মধ্য দিয়ে অন্য দেশে দেশে অবশ্যই ট্রানজিট ভিসা নিন।

ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • পাসপোর্ট কপি
  • এককপি ২x২ ইঞ্চি মাপের প্রিন্টেড ছবি ও আরেকটি সফট কপি (শুধু অনলাইন আবেদনের সময় লাগবে)
  • পুরনকৃত ফর্ম (প্রিন্টেড)
  • স্মার্ট কার্ড/এনআইডি অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি
  • ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা টেলিফোন বিল)
  • পেশার প্রমাণপত্র (বেসরকারি চাকুরিজীবি হলে NOC, সরকারি চাকুরিজীবি হলে NOC/G.O>.
  • ছাত্র হলে STUDENT আইডি কার্ড বা বেতনের রশিদ,
  • ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি,
  • আর পেশা কৃষি হলে জমির খতিয়ানের ফটোকপি)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ডলার এনডোর্সমেন্ট অথবা ইন্টারন্যাশনাল কার্ডের কপি
  • পাসপোর্ট এর ডাটা পেইজের ফটোকপি (ছবির পাতা)
  • সর্বশেষ ইন্ডিয়ান ভিসার ফটোকপি (যদি থাকে)

অন্য কোন সাপোর্টিং কাগজ যদি দিতে চান।

  • পূর্ববর্তি সকল পাসপোর্ট। যদি পুরাতন পাসপোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে।
আর হারিয়ে গেলে জিডি কপি ও লস্ট সার্টিফিকেট দিতে হবে।
ঢাকা টু বুড়িমারি বাসের রিটার্ন টিকিট (ফটোকপি ও মূল টিকেট)
  • যে দেশে যাবেন সে দেশের হোটেল বুকিং
সুতরাং দেখতেই পাচ্ছেন কি কি লাগবে এখানে কাগজগুলো টুরিস্ট ভিসার মতই।
  • শুধুমাত্র ১২ ও ১৩ নম্বর আলাদা তাই আমি এখানে শুধু এই দুটি কাগজ সম্পর্কে এখানে আলোচনা করব।

বাসের টিকিট

  • ইন্ডিয়া এই মুহুর্তে ভুটান যাওয়ার জন্য শুধু Chengrabanda/Jaygaon দিয়ে ও নেপালের জন্য শুধু Chengrabanda/Ranigonj দিয়ে ট্রানজিট ভিসা দেয়।
  • চ্যাংড়াবান্ধা হল বর্ডারের ভারতের অংশের নাম আর আমদের অংশের নাম হল বুড়িমারি।
তাই এই যে দেশের জন্যই ট্রানজিট ভিসা নিতে চান না কেন আপনাকে ঢাকা টু বুড়িমারি পর্যন্ত কনফার্ম বাসের টিকেট দিতে হবে।
  • ঢাকা থেকে বুড়িমারি পর্যন্ত অনেক বাস আছে যেমন এস, আর ট্রাভেলস, পিংকি, মানিক ইত্যাদি। এছাড়া শ্যামলীর বাস আছে শিলিগুড়ি পর্যন্ত আর ভাড়াও অনেক প্রায় ১৬০০ টাকার মত।
এছাড়া ভুটান গেলে আপনার তো আর উলটা শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাওয়ার দরকার নেই তাই সবদিক বিবেচনায় উপরে উল্লিখিত যেকোন বাসের বুড়িমারি পর্যন্ত রিটার্ন টিকিট কেটে নিন।
  • ভাড়া নন এসি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, আর এসি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। আমরা গিয়েছিলাম এস, আর প্লাস এসিতে ভাড়া ছিল ৮০০ টাকা।
আর কোন কারনে ভিসা না হলে টিকেট ফেরত নিবে, মানে ক্যান্সেল করবে তবে কিছু টাকা কেটে রাখবে।
তাই আপনি টিকেট নেয়ার সময় বলে নিন যে ভিসা না হলে টিকেট ফেরত নিবে কিনা বা নিলেও কত টাকা কাটবে। তা না হলে পরে ঝামেলা করতে পারে আবার।
  • বাস টিকেটের ফটোকপি দিবেন। আর মূল টিকেট পাসপোর্টের সাথে স্ট্যাপল করে দিবেন। মুলকপি পাসপোর্ট এর সাথে ফেরত দিবে।

হোটেল বুকিং

  • ট্রানজিট ভিসার আবেদনের জন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট দেশের হোটেল বুকিং দেখাতে হবে।
তবে কয়েকদিন পর বুকিং ক্যান্সেল করে দিবেন তা না হলে কিন্তু হোটেলগুলো ভাববে আপনি আসবেন তাই ওরা আর বুকিং নিবে না।
  • তাই সিস্টেমটির সঠিক ব্যাবহারের জন্য মনে করে বুকিং ক্যান্সেল করবেন।
See also  ভারতীয় পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়মাবলী, পাসপোর্ট বানাতে কি কি লাগে

ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসার ফরম পুরন

  • ট্রানজিট ভিসার ফরম পুরন টুরিস্ট ভিসার মতই, তবে ৩য় পেইজে একটু ডিফারেন্ট। ফরম টুরিস্ট ভিসার মতই এই লিংকে গিয়ে পুরন করতে হবে।
Expected date of arrival দিবেন বাসের টিকেট যেদিনের সেদিন। মানে বাসের টিকেট যদি ধরুন জানুয়ারি ৫ তারিখ রাতের, তাহলে ডেট দিবেন জানুয়ারি ৫। আগের মত একদিন পরে দিলে এখন আর আবেদন জমা নিচ্ছে না।
  • travel another country before India এর ঘরে No দিবেন আর travel another country after India তে yes দিবেন ও নিচের ঘরে Bhutan বা Nepal দিবেন।
ভুটানের জন্য Port of Entry & Exit দুই বারেই দিতে হবে Chengrabanda/Jaygaonআর নেপালের জন্য দিবেন Chengrabanda/Ranigonj

NO. OF ENTRY তে অবশ্যই DOUBLE দিবেন

  • ট্রানজিট ভিসার পোর্ট নির্বাচন সমস্যার সমাধান অনেকেই ইদানিং ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা ফরম এ পোর্ট সিলেকশন করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ছেন।
Chengrabanda/Jaygaon বা Chengrabanda/Ranigonj সিলেক্ট করলেই সব সময় invalid বা invalid character

কিছু বিষয় জেনে রাখুন

  • ট্রানজিট ভিসা আবেদন অন্যান্য ভিসা আবেদনের মতই আপনি এক মাসে আগেই করতে পারেন। তবে জেনে রাখুন যে ইন্ডিয়া শুধু ১৫ দিনের জন্য ট্রানজিট ভিসা দেয়।
তাই যত আগেই আবেদন করুন না কেন আপনার যাত্রা শুরুর ১ থেকে ৩ দিন আগেই কেবল পাসপোর্ট ফেরত পাবেন।ওরা আপনার বাস টিকেট অনুযায়ী যাত্রার তারিখ ধরবে।
  • ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ট্রানজিট ভিসার জন্য একটা কাউন্টার মাত্র, তাই অন্যান্য ভিসার তুলনার এটা জমা দিতে একটু বেশি সময় লাগে।
সব সময় নতুন ছবি দিয়ে ভিসা আবেদন করবেন।
আশা করি ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা আবেদন সম্পর্কে আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি।
  • তারপরেও আরো কোন প্রশ্ন থাকলে করুন। আমি উত্তর দিব।
আর আপনার কাছে যদি আপডেট তথ্য থাকে অথবা কোন তথ্য ভুল মনে হয় তাহলে দয়া করে কমেন্ট করে জানান,

পরিশেষে একটি অনুরোধ রইলো

আপনার পাসপোর্ট একান্তই আপনার নাহ এটি একটি দেশ ও জাতির সন্মান বহন করে।
আপনি যখন বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য দেশে যান, তখন আপনার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চিনে অন্য দেশের মানুষজন।
নিজেকে, নিজের দেশকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করুন। তাতে আপনার মর্যাদা বাড়বে, দেশের মর্যাদা বাড়বে। ধন্যবাদ

Thank u please stay safe,stay with us…

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page