কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম | কোরবানি কত জনে দেওয়া যায় | ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম | কোরবানি কত জনে দেওয়া যায় | ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম | কোরবানি কত জনে দেওয়া যায় | ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম
কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম | কোরবানি কত জনে দেওয়া যায় | ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

আল্লাহ তায়ালার সন্তুুষ্ট পাওয়ার আশায় প্রতি বছর ঈদের সময় পশু জবাই দিয়ে থাকে ধর্ম প্রাণ মুসলমানেরা, আর সেই পশুকে আল্লাহর কাছে উৎসগ করাকে কোরবানি ঈদ বলে। যার আভিধানিক অর্থ ঈদুল আজহা অথবা কোরবানির ঈদ। ঈদুল ফিতর শেষ হওয়া মাত্র মুসলিমরা কোরবানি ঈদের জন্য নিজের প্রস্তুত হয়। যাদের উপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব হয়েছে তারা পুরো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। তাই কোরবানি দাতা জানতে চান, কোরবানির নাম দেওয়া নিয়ম, কোরবানি কত জনে দেওয়া যায় ও ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম।

কোরবানি ঈদের সময় আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে থাকে মানুষ। ইসলামি শরিয়তের ভাষায় ঈদুল আজহা হল, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা। আর আমরা এই তারিখ গুলোকে কেন্দ্র করে পশু কোরবানি করে থাকি।

কোরবানি কি ফরজ না ওয়াজিব

কোরবানি কি ফরজ নাকি ওয়াজিব? উত্তর হল কোরবানি ওয়াজিব কিন্তু সকলের অপরে তা নয়। কারণ কোরবানি দেওয়ার নিয়ম হলো আপনি যদি নিজ খরচ ও পরিবারের খরচ বহন করে, বেশ কিছু টাকা উর্পাজন করে থাকেন। আর কোরবানি দেওয়ার মতো শক্তিসামর্থ্য থাকে তাহলে আপনার উপর কোরবানি ওয়াজিব। অযথা কোরবানি দেওয়ার প্রয়োজন নেয়।

এই কোরবানি দেওয়া নিয়ে আরও নবী করীম হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানী করেনি সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়”[সুনানে ইবনে মাজাহ (৩১২৩)

কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম

পশু কোরবানির সময় নাম দেওয়ার এতো প্রয়োজন নেয় কারণ, কুরবানির পশু ক্রয় করার সময়ই নির্ধারিত হয়ে যায় কোরবানিদাতা কে। কোরবানি দেওয়ার সময় মালিক যাদের নামে পশু জবাই দেওয়ার নিয়ত করবে ঠিক তাদের নামেই কোরবানি হয়ে যাবে।

See also  অনলাইনে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক। GPF Balance Check in Online

আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুুষ্ট করার জন্য কোরবানি করা। কোরবানির পশু জবাই করার সময় কোরবানিদাতার নাম মুখে উল্লেখ করা সুন্নাহ নয়। কেননা পশু কোরবানি দেওয়ার সময় হয়রত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানি দেওয়ার সময় শুধু মাত্র বিসমিল্লাহ ও আল্লাহ আকবর বলেছেন।

এছাড়াও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির পশু জবাই করার সময় কার পক্ষ থেকে কুরবানি হচ্ছে তার নাম মুখে উল্লেখ করেননি। তাইতো কুরবানির পশু ক্রয় করার সময় নাম গুলো উল্লেখ করলেই হয় বা উল্লেখ করা যাবে, তাতে কোনো সুন্নত হবে না।

আরও এবাবে করলেও হবে যে, আমরা অমুক বলছি, আমাদের কুরবানি কবুল করুন, অথবা সবার তরফ থেকে কুরবানি কবুল করুন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী-৫৫৫৮,সহীহ মুসলিম -১৯৬৬

কোরবানি কত জনে দেওয়া যায়

আল্লাহ তায়ালাকে রাজি-খুশি করানোর জন্য হালাল টাকা দিয়ে ঈদুল আজহায়ে পশু কোরবানি দেওয়া হয়। কেউ একা কোরবানি দেয় আবার কেউ মিলেমিশে বা অংশীদার হিসাবে কোরবানি দিয়ে থাকে। অনেকে আবার জানতে চান কোরবানি কত জনে দেওয়া যায়? প্রথমত অংশীদারি কোরবানি বেশি যৌকির হয়ে থাকে কারন আপনার সাতে যে মিলে কোরবানি দিবে তার টাকা যদি হালাল না হয় তাহলে তার পাশাপাশি আপনার কোরবানিও হবে না। আবার কোরবানির সময় বন্টনে সমান রাকতে হবে।

মহিষ, গরু ও উট সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ি: ৪/২০৭)

ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম হলো, আপনার সাথে যে কোরবানি দিবে সে কি কোরবানি দেওয়া জন্য প্রস্তুত বা কোরবানি দেওয়া তার জন্য ওয়াজিব হয়েছে কি না তা আগে জানতে হবে। এরপর তার উপাজন করা টাকা কি হালাল নাকি হারাম তা জানতে হবে। মনে রাখবে আপনার অংশীদারদের জন্য আপনার কোরবানিও নাও হতে পারে। সাত জনের কম কিনবা সমান মানুষ ভাগে কোরবানি দিবে ৭ থেকে বেশি হলে তা হবে না। এই নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে ভাগে কোরবানি দেওয়া যাবে।

See also  ওয়ারিশ সম্পত্তি বা বাবার সম্পত্তি ভাগের নিয়ম

কোরবানির পশুর বয়স

জবাই দেওয়া আগে সকলের জানা প্রয়োজন কোরবানির পশুর বয়স কত হলে তা কোরবানির জন্য প্রস্তুত বলে গণ্য হবে। সবসময় কোরবানির জন্য ভালো মানের পশু নিয়ন করা। যেমন আপনার এক দেখায় তা পছন্দ হয়ে যায়, রোগমুক্ত হওয়া। এছাড়া কোরবানি পশুর বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

  • গরু ও মহিষ: গরু ও মহিষের কোরবানির জন্য নিয়ন করা যাবে যদি তাদের ২ বছর হয়। এছাড়া আরও কম বয়সের গরু ও মহিষকে কোরবানি দেওয়া যাবে না।
  • উট: কোরবানি ঈদে জবাই করার জন্য উট সকলের কাছেই পরিচিত একটা পশু। ঈদুল আজহাতে উট কোরবানি দেওয়া যাবে যদি তার ৫ বছর হয়। এর নিচে বয়সি উট জবাই দেওয়া যাবে না।
  • ছাগল, ভেড়া, দুম্বা : কোরবানি পশু হিসাবে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স এক হতে হবে। তাহলে তা কোরবানির জন্য নেওয়া যাবে।

উপরে উল্লেখ পশুর বয়স গুলো যদি কম হয় তাহলে কোরবানি করা যাবে না কিন্তু কম হলেও যদি দেখতে সুন্দর ও বয়সে বেশি মনে হয়, অথবা পশু জবাই দেওয়ার জন্য অন্য কোনো পশু পাওয়া না যায় তাহলে কোরবানি দেওয়া যাবে এই পশু দিয়ে।

কোরবানির পশুর জবাই করার দোয়া

কোরবানি দেওয়ার সময় অবশ্যই দোয়া পড়তে হবে, তাইতো নিচে কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া দেওয়া হল।

ইন্নি ওয়াজ জাহতু ওয়াজ হিয়া লিল্লাযি ফাতারাছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ ইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাবিবল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বিজালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা-বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।’

ইনফোলাইনবিডি বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই আর্টিকেলটি লিখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু জানার তাকলে কমেন্ট করতে পারেন। ধন্যবাদ।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page