জানুন দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়

জানুন দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়

জানুন দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়
জানুন দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়

একটা মোবাইল ফোন সারাক্ষণ ব্যবহারের পর যেমন সেই ফোনটার চার্জের দরকার হয় তেমন আমাদেরও সারাদিন কাজ করার পর রাতে ঘুমানোর প্রয়োজন হয়। রাতে ঠিক মতো ঘুমানোর ফলে আমরা নতুন করে উজ্জীবিত হয় পরের দিনের কাজ কর্মের জন্য। ঘুম মূলত আমাদের শরীলে রিফ্রেশমেন্টের কাজ করে। একজন সুস্থ সবল মানুষের কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা টানা ফ্রেশ ঘুমের প্রয়োজন। এই একটানা ঘুমের ফলে আমদের শরীলের হরমোন ঠিক মতো কাজ করে। এছড়া ঘুম মাথাকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। একদিন ঠিক মতো ঘুম না আসলে মাথা কেমন ভারি ভারি মনে হয়। তাই সুস্থ থাকার জন্য সঠিকভাবে ঘুমের প্রয়োজন।

অনেক সময় আমরা সঠিকভাবে ঘুমাতে পারিনা। বিচানায় শোয়ার পর এপাশ ওপাশ করতে করতে অনেক সময় চলে যায়। তারপরও চোখে ঘুম আসে না যা কিনা অনেকটা বিরক্ত ও অস্বস্তিকর। যদিও ঘুম আসে কিন্তু তার জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমরা অনেকেই চাই দ্রুত ঘুম না আসার এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে। তার জন্য কিভাবে দ্রুত ঘুমিয়েম পড়া যায় তার উপায় সম্পর্কে জানতে চাই। আপনাদের সুবিধার জন্য আজ আমরা আলোচনা করব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায় সম্পর্কে। আমাদের এই উপায় গুলো আপনি যদি অনুসরণ করেন তাহলে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার অনেক গুলো উপায় আছে। দ্রুত ঘুম না আসার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে আপনি যদি এই সকল কারণ গুলোর সঠিক সমাধান করতে না পারেন তাহলে দ্রুত ঘুম আসবে না। তাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে ঘুম না আসার কারণ গুলোর সমাধান করুন। আজ আমরা কথা বলব ঘুম না আসার ১৩ টি কারণ নিয়ে। এই ১৩ টি কারণের মধ্যে হয়তো আপনার সমস্যাটি থাকবে ঐ সমস্যা কিভাবে সমাধান করবেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায় জানতে নিচের কারণ গুলো মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

দ্রুত ঘুম না আসার কারণ

দ্রুত ঘুম না আসার ১৩ টি কারণ রয়েছে যেগুলোর কারণে আপনারা দ্রুত ঘুম আসে না। তাই দ্রুত ঘুম না আসার পিছনে যে ১৩ টি কারণ রয়েছে সেই সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

  1. দুশ্চিন্তার কারণে দ্রুত ঘুম না আসা
  2. কেফেইন জাতীয় খাবারের কারনে
  3. ঘুমানোর আগে দুধ পান না করা
  4. ঘুমানোর আগে একঘন্টা রিলাক্স না করা
  5. জোর করে বিছানায় শুয়ে থাকা
  6. বিছানা শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার না করা
  7. বারবার ঘড়ি দেখা
  8. ঘুম নিয়ে দুশ্চিন্তা করা
  9. ধূমপান করা
  10. দিনের বেলা ঘুমানো
  11. নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী না ঘুমানো
  12. রাতে ভরা পেটে শুয়ে পরা
  13. নিয়মিত ব্যায়াম না করা
See also  অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম, Driving Licences Check in Online

এই সম্ভত কারণে দ্রুত ঘুম আসে না।

দ্রুত ঘুম না আসার কারণ গুলোর সমাধানে করনীয়

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়ের পিছনে যে সমস্ত কারণ গুলো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় সেই কারণ গুলোর সমধানে কিভাবে করা যায় তার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

দুশ্চিন্তার কারণে দ্রুত ঘুম না আসা

গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘুমাতে গেলে নানান দুশ্চিন্তা মাথায় এসে বড় করে যার কারণে ঘুম আসে না। এটাকে দুশ্চিন্তার সময় বলা হয়। এই দুশ্চিন্তা গুলো সমাধানে আপনাকে দিনের বেলার একটা সময় খুঁজে বের করতে হবে যেই সময়ে আপনি দুশ্চিন্তা গুলো নিয়ে ভাববেন তাহলে এই সমস্যাটা দিনেয় সমাধান হয়ে যাবে রাতে আপনাকে বিরক্ত করবে না।

কেফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা

চা কফি বিভিন্ন এনার্জি ড্রিংস এগুলো খাবার খাওয়া যাবে না। কারন এই খাবার গুলো ঘুম আসায় বাধা প্রদান করে। কারণ এই খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমানে কেফেইন যা ঘুমের বেঘাত ঘটায়। তাই ঘুমানোর ৬ ঘন্টা আগে এই খাবর গুলো না খাওয়া ভাল।

ঘুমানোর আগে দুধ পান করা

ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম দুধ খাওয়া যেতে পারে। কারণ দুধে আছে ক্রিপ্টোফেইন যা একটানা ঘুমাতে সাহায্য করে থাকে। তাই অনিদ্রা জনিত কারণে গরম দুধ বেশ একটি কার্যকারি খাবার।

ঘুমানোর আগে একঘন্টা রিলাক্স করা

যাদের অনিদ্রা সমস্যা রয়েছে তাদের কে অনেক সময় ডাক্তাররা ঘুমাতে যাওয়ার আগে একঘন্টা রিলাক্স করার কথা বলেন। এই একঘন্টা রিলাক্স করার সময় মনে প্রশান্তি আনে এই রকম কিছু করতে বলা হয়। যেমন ধর্মগ্রন্থ পড়া, বই পড়া, গরম পানি দিয়ে গোসল করা, গান শোনা বা কবিতা শোনা এই সমস্ত কাজ করার কথা বলা হয়। যার ফলে মাইন্ড ফ্রেশ হয় ও তারপর ভাল ঘুমাতে গেলে ভাল ঘুম হয়। ঘুমানোর আগে যে সকল কজ করতে মানা করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার টিভি দেখা। কারণ এগুলো উজ্জ্বল আলো চোখে ঘুম আসতে বাধা দেয়।

স্ট্রিমিলাস কন্ট্রোল পদ্ধতিতে জোর করে বিছানা শুয়ে না থাকা

স্ট্রিমিলাস কন্ট্রোল পদ্ধতিতে ঘুম না আসলে জোর করে বিচানায় শুয়ে থাকতে মানা করা হয়। আপনার যদি ঘুম না আসে তাহলে পাশের ঘরে চলে যান বই পড়ুব বা অনান্য কাজ করুন যে কাজে মনে প্রশান্তি আসে। তারপর কেবল ঘুম আসলেই বিছানায় চলে যান তার আগে নয়।

স্ট্রিমিলাস কন্ট্রোল পদ্ধতিতে বিছানা শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার করা

স্ট্রিমিলাস কন্ট্রোল পদ্ধতি অনুসারে বিছানা শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার করা কথা বলা হয়। কারণ এর ফলে মস্তিষ্কে এই জিনিস সেটআপ হয়ে যাবে বিছানা শুধু ঘুমের জন্য। ফলে বিছানায় শুয়া মাত্র ঘুম চলে আসবে। এই পদ্ধতিতে বিছানায় অনান্য কাজ যেমন ভাত খাওয়া, বই পড়া, মোবাইল চাপাচাপি করা এগুলো করতে নিষেধ করা হয়।

বারবার ঘড়ি না দেখা

আমরা অনেকেই ঘুমাতে যাওয়ার পর বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণ পর পর ঘড়ি দেখি। যার ফলে ঘুম না আসার কারনে সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় আমরা দুশ্চিন্তা গ্রস্থ হয়ে পরি। এর ফলে ঘুম আসতে আরো দেড়ি হয়। তাই ঘুমাতে গেলে ঘড়ি দেখা যাবে না দেয়াল ঘড়ি থাকলে তা উল্টো করে রাখুন। ঘুমানোর সময় মোবাইল বিছনা থেকে দূরে রাখুন।

ঘুম নিয়ে দুশ্চিন্তা না করা

আমাদের অনেকের মধ্যে এই চিন্তা কাজ করে যে আমাদের কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমাতেই হবে। এই একটানা আট ঘন্টা না ঘুমালে নানান শারীলিক সমস্যা হবে এই সমস্তে কারণে রাতে সঠিক ঘুম হয় না। অনেক সময় রাতে ঘুমাতে গেলে মনে হয় আমাদের আজ রাতে যদি ভাল ঘুম না হয় তাহলে কাল ভালভাবে কাজ করতে পারব না। তাছাড়া ঘুম নিয়ে বিছানায় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার কারণে ভাল ঘুম হয় না। দ্রত ঘুমিয়ে পড়তে এগুলো পরিহার করতে হবে।

See also  প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার নিয়ম

অনিদ্রা সমস্যায় রাতের খাবার ঘুমানোর অনেক আগে খেতে হবে

যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে তাদেরকে রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে ৩-৪ ঘন্টা আগে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অনেক সময় ভরা পেটে খুব ভাল ঘুম হয় না। তাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে রাতের খাবার ঘুমানোর ৩-৪ ঘন্টা আগে খেতে হয়।

ধূমপান না করা

অনিদ্রা সমস্যায় ধূমপান না করতে বলা হয়। কারণ নিকোটিন এক ধরনের উত্তেজক পদার্থ। এইগুলো ঘুমের বেঘাত ঘটায়। ভাল ঘুম না হওয়ার পিছনে ধূমপান অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একেবারে ধূমপান না ছাড়তে পারলেও ঘুমানোর ১ ঘন্টা আগে অন্তত ধূমপান না করতে বলা হয়।

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায় নিয়মিত ব্যায়াম করা

ব্যায়াম শরীলকে সতেজ রাখে যা দ্রুত ঘুমের জন্য খুবই কার্যকর। তাই প্রতিদিন নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে অনিদ্রা থেকে পরিত্তান পাওয়ার জন্য। কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ায় কমপক্ষে ৩ ঘন্টা আগে ব্যয়াম করতে হবে। তাহলে প্রতিদিন ভাল ঘুম হবে।

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায় নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়া

শরীলকে দ্রুত ঘুমে অভ্যস্ত করতে রুটিন মাফিক ঘুমাতে হবে। অর্থাৎ, একটা নির্দিষ্ট সময় বেচে নিতে হবে ঘুমাতে যাওয়ার এবং ঘুম হইতে উঠার জন্য। তাহলে আপনার শরীল প্রতিদিন ঐ নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে গেলে সহজেই ভাল ঘুম হবে। তাই সময়মতো ঘুমানো দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার একটি অন্যতম উপায়।

দিনের বেলা ঘুমাতে নিরুৎসাহিত করা

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে দিনের বেলা ঘুমাতে নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ দিনের বেলা ঘুমালে রাতে সহজে ঘুম হয় না। তাই দিনে ঘুমাতে গবেষকেরা না করেন। যদিও দিনে ঘুমানো একান্ত প্রয়োজন মনে করেন তাহলে দুপুরের আগে ঘুমিয়ে নিবেন তবে খেয়াল রাখবেন কোনভাবেই যেন ৪০ মিনিটের বেশি ঘুম না হয়।

রাতে ঘুম না হলে করনীয়

রাতে কম ঘুম না হওয়ার পিছনে অনেক করাণ আছে। তবে অনেকেই অনিদ্রা নামক সমস্যায় ভুগেন যার কারণে রাতে ঘুম হয় না। রাতে ঘুম না হওয়ার কারনে আপনারা ঔষধ সেবন করেন যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাতে ঘুম না হলে আপনার প্রতিদিম কমপক্ষে ১৫ মিনিট ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে পারেন। এছাড়া দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস তাকলে তা একদম পরিহার করুন তাহলে রাতে ঘুম হবে।

কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুম কম হয়

শরীলে ভিটামিন ডি এর অভাবে ঘুম কম হয়। তাই আপনার যদি রাতে ঘুম কম হয় তাহলে ভিটামিন ডি এর পরিমান শরীলে কমে গেছে বলে মনে করবেন। এজন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন-ডি জাতীয় ঔষধ সেবন করতে হবে। তাহলে অনেকটা ঘুম কম হওয়ার সমস্যা থেকে রেহায় পাওয়া যায়।

রাতে ঘুম না আসা রোগের নাম

আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ আছে যারা রাতে ঘুম না আসা রোগের নাম জানে না। তাই তাদের সুবিধার জন্য বলা হচ্ছে রাতে ঘুম না আসা হলো এক ধরনের রোগ। এই রোগটিকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলা হয়। প্রায় সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগ দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের এই রোগে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। কারণ অতিরিক্ত টেনশনের থেকে অনেকটা এই রোগের উদ্ভব বলা চলে।

ঘুম বৃদ্ধির উপায়

ঘুম বৃদ্ধি অনেক গুলো কারণের উপর নির্ভর করে। ঘুম বৃদ্ধি করার জন্য খাবার দাবারের পরিবর্তন করা যেতে পারে। কারণ খাদ্য অভ্যাসের উপর অনেক সময় ঘুম কম বেশি হওয়া নির্ভর করে। নিয়মিত ব্যায়াম, একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে যাওয়া, ধূমপান কমানো, টেনশন ফ্রি থাকা এই গুলো কন্ট্রোল করার মাধ্যমে ঘুম বৃদ্ধি করা যায়।

ঘুম না আসলে কি দোয়া পড়তে হয়

ঘুম না আসলে নিচের দোয়টি পড়তে হয়।

আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত কুন লি ঝারাম মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম ঝামিআ। আইঁইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁইয়াবগিয়া আলাইয়্যা আয্যা ও ঝাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা ও লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ (মিশকাত, মুসলিম)

তাহলে দ্রুত ঘুম চলে আসে।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page