টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম
টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম

আমাদের সকলের জীবনে অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস হয়ে উঠেছে টিন সার্টিফিকেট। মানুষ আয়কর প্রদান অথবা সরকারি কোনো কাজের জন্য TIN certificate ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও আপনি যদি বিকাশ, নগদ, উপায় এবং রকেট এজেন্ট হতে চান থাহলেও আপনার টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রােশন করতে হবে।

যারা ব্যাবসার সাথে জড়িয়ে ও যারা ফেসবুক পেজে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করবেন সকলের জন্য TIN সার্টিফিকেট দরকার। তা-ই আজ জানাবো টিন সার্টিফিকেট কি, টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম, টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড, টিন সার্টিফিকেট চেক ও TIN সার্টিফিকেটের সুবিধা সম্পর্কে।

What is TIN certificate?, টিন সার্টিফিকেট কি?

বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আয়কর রির্টান দেওয়া সময়। আপনারা কর প্রদান করার সময় টিন অথবা টিআইএন এর ব্যবহার করে থাকেন। TIN ও E-TIN এর মানে হল: ট্যাক্সপেয়ার আইডেনটিফিকেশন নাম্বার। আপনি যে একজন করদাতা তার একমাত্র প্রমান টিন নাম্বার বা টিন সার্টিফিকেট। ১২ সংখ্যার হয়ে থাকে টিন Certificate number.

e-TIN বা টিন সার্টিফিকেট আপনার কর দেওয়া প্রমান বহন করে থাকে। যেমন TIN নাম্বারের প্রথম তিনটি নাম্বার করদাতা অঞ্চল, পরের তিনটি নাম্বার করদাতা পদমর্যাদা ও শেষ ৪ নাম্বার ব্যবহার হয় করদাতাকে চিহ্নত করার জন্য।

টিন সার্টিফিকেট কি কি কাজে লাগে?

  • টিন সার্টিফিকেটের প্রধান কাজ এই হলো আয়কর প্রদান করার প্রমান বহন করা। আরও কিছু কাজে টিন সার্টিফিকেট লাগবে তা নিচে দেওয়া হল:
  • আপনি যদি ফেসবুক পেজের টাকা বের করতে চান অথবা পেজের সেটিং সঠিক ভাবে করতে চান তাহলে টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স করতে হলে টিন সার্টিফিকেট লাগবে।
  • দেশের বাহির থেকে কোন পণ্য আমদানি রেজিষ্ট্রেশন করতে লাগবে TIN Certificate.
  • মোবাইল ব্যাংকিং এর এজেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে টিন সার্টিফিকেটের।
  • আপনার কোম্পানি রেজিস্ট্রার করতে।
  • ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড আবেদন করলে।
  • ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন করতে হলে লাগবে।
  • গাড়ি ক্রয় করতে বা তার নিদিষ্ট মালিক হওয়ার জন্য।
  • সিটি এরিয়ায় জমি রেজিস্ট্রার করতে।
  • বিভিন্ন সব কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করতে Tin সার্টিফিকেট লাগবে।
  • আইনজীবী ও চিকিৎসক দের পেশার চর্চা করতে TIN certificate দরকার।

টিন সার্টিফিকেট করতে কত টাকা লাগে?

টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে কোনো টাকা লাগে না। বর্তমান আধুনিক যুগে ঘরে বসে অনলাইনে মাধ্যমে ই-টিন বা টিন সার্টিফিকেট করতে পারবেন।

টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম

আপনি এই আর্টিকেলটা মন দিয়ে পড়ছেন মানে আপনি টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে চান। আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সাহায্যে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া কম্পিউটার দিয়ে ও এই আবেদন করা যাবে। তো বেশি কিছু না বলে সোজা টিন সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন নিয়ম নিচে দেওয়া হল:

See also  পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ

ধাপ ১:- আপনি যদি নিজে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করতে চান তাহলে যে কোনো একটি ব্রাউজারে প্রবেশ করে সার্চ বক্সে লেখতে হবে, e-TIN – TIN Registration। এটা লেখার পর সামনে যে ইন্টারফেস শো করবে সেই জায়গায় ক্লিক করতে হবে অথবা আপনি চাইলে https://secure.incometax.govbd/ TINHome এই লিংকে চাপ দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।

উপরে থাকা ছবির মতো একটি অবশন থাকবে আপনি register এ ক্লিক করে প্রবেশ করবেন মূল ফরম্যাটে।

ধাপ ২:– এই ধাপে আমাদের একটা User id তৈরি করতে হবে। ১ লেখা চিহ্নে আপনারা ৮ অক্ষরের একটি ইউজার আইডি নাম্বার দিবেন। চাইলে আপনার নামের সাথে কিছু নম্বরও দিতে পারবেন। যেমন: Khokun12

User id লেখার পর দুই নাম্বারে অনশনে আপনার একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। অবশ্যই আপনি যে password টি দিবেন সেটি ৮ নাম্বারের হওয়া লাগবে।

এরপর পূনরায় আবারও এই একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। আর পরবর্তীতে কিন্ত আপনার টিন সার্টিফিকেটের নতুন করে বের করার জন্য এই পাসওয়ার্ডটি দরকার হবে। তাই পাসওয়ার্ডটা সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করুন।

এরপর তিন নাম্বারে Security Question এ ক্লিক করতে হবে, করার পর ১৮ টি প্রশ্ন আসবে যে কোনো একটায় ক্লিক করে আপনাকে এটার উত্তর দিতে হবে। আপনি চাইলে নিজেও একটি প্রশ্ন তৈরি করে তার উত্তর দিতে পারবেন। অবশ্যই আপনি এখানে যে প্রশ্ন ও উত্তর দিবে তা সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এখন তো টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম শিখছেন পরবর্তীতে এটা বের করার জন্য এই প্রশ্ন আর উত্তর দরকার হবে।

চার নাম্বারে প্রথমে আপনার দেশের নাম দিবেন খালি ঘরে। দেওয়া হলে আপনার একটি সচল নাম্বার এখানে দিতে হবে। যে নাম্বারটি আপনার মোবাইলে সবসময় তাকে এটা দেওয়া চেষ্টা করুন। কেননা টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রােশন সম্পুর্ন হলে এই সিম নাম্বার এক্টিভ মেসেজ দিবে কতৃপক্ষ। number দেওয়া শেষ হলে চাইলে ইমেইল ঠিকানা দিতে পারেন। email address না দিলেও হবে।

পাঁচে কতগুলো লেটার আসবে আপনার এই letter গুলো সনাক্ত ( JKYKJF) করে তা খালি ঘরে দিয়ে Register অনশনে চাপ দিতে হবে। নোট: সবারই কিন্তু একধরনের লেটার আসবে না।

ধাপ ৩:- আগের ধাপে রেজিষ্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করলে এই ধাপে এক্টিভ কোড চাইবে। আপনি যে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছিলেন সেই নাম্বারে একটা মেসেজ কোড পাঠানো হবে। এই কোডটা খালি ঘরে লেখে Active এ চাপ দিতে হবে।

See also  প্যান কার্ড কি? প্যান কার্ডের আবেদন করার নিয়ম

ধাপ ৪ :- active বাটনে ক্লিক করার পর আপনার টিন সার্টিফিকেটের User I’d করা হয়েছে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। পর আপনি পুনরায় Log in, বাটনে প্রবেশ করবেন। করা পর আপনার ইউজার আইডি রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে ও আপনার পাসওয়ার্ডটা দেওয়া লাগবে।

ধাপ ৫:- ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করার পর নিচে থাকা ছবির মতো একটা পৃষ্ঠা আসবে আপনার সামনে। আপনি এখান থেকে TIN Application এ ক্লিক করবেন।

ধাপ ৬:- এখন থেকে টিন সার্টিফিকেট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। আপনি যদি আপনার ব্যক্তি প্রয়োজনে টিন সার্টফিকেট আবেদন করবে তাহলে তাহলে করদাতার Individual নিবার্চন করতে হবে। এছাড়া যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য করে থাকেন তাহলে Company সিলেক্ট করতে পারেন। আর যদি এসবের মধ্যে না হয় তাহলে বাকি অবশন থেকে যেটা দরকার তা সিলেক্ট করতে পারেন।

এরপর কোন দেশে বসবাস তা দিয়ে দিবেন। আপনার এনআইডি কার্ড প্রয়োজন হবে।এরপর রেজিষ্ট্রেশন টাইপ সিলেক্ট করতে হবে। আর এই খালি ঘরে new registration দিতে হবে। পরের অংশে আপনার আয়ের বেশ কিছু তথ্য ফিলাপ করতে হবে। সব তথ্য সঠিক ভাবে দেওয়া হলে go to next বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ধাপ ৭:- এর পর যার জন্যে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করছেন তার ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য দিতে হবে।আপনার নাম, লিঙ্গ, NID card নাম্বার, জন্ম নিবন্ধন, বাবার নাম, মায়ের নাম আরও কিছু তথ্য দিয়ে তাদের সহ যোগিতা করতে হবে। সবকিছু সঠিক ভাবে দেওয়া হয়ে গেলে আবারও GO TO Next এ ক্লিক করুন।

এরপর আপনি যে যে তথ্য দিয়েছেন টিন সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তা দ্বিতীয় বার চেক করার সুযোগ পাবেন। আর অবশ্যই তখন যদি আপনি কোনো প্রকার ভুল পেয়ে থাকেন এই টিন সার্টিফিকেটে তাহলে আবার পূনরায় সবকিছু সঠিক ভাবে দিতে পারবেন। TIN certificate তথ্য যদি সঠিক ভাবে দেওয়া থাকে তাহলে নিচে দেখবেন একটি খালি ঘর এখানে ঠিক মার্ক দিয়ে Submit Application এ ক্লিক করুন।

ধাপ ৮:– Application submit করার পর টিন সার্টিফিকেট আবেদন করা সম্পন্ন হবে। আপনার টিন সার্টিফিকেটটি পুরোপুরি ব্যবহার করার জন্য রেডি হয়ে যাবে। আপনি চাইলে এখান থেকে TIN certificate Print করে নিতে পারবেন। আর সেই সার্টিফিকেট দিয়ে সবধরনের কাজ করতে পারবেন।

টিন সার্টিফিকেট এই জায়গায় থেকে print করতে পারবেন।

infolinebd শেষ কথা

আমাদের সকলের নিজ দায়িত্বে সরকারকে কর প্রদান করা দরকার। যে অবস্থায় আমাদের আয়কর প্রদান করা উচিত সেই সময় তা দিবো। আর উপরে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম যারা বুঝতে পারেন নাই তারা কমেন্ট করেতে পারেন নিচে। ধন্যবাদ পুরোটা সময় আমাদের সাথে থাকার জন্য।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page