ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। কারণ হিসেবে বলা চলে আপনার যদি কোন মোটর গাড়ি থাকে তাহলে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকাটাও আবশ্যক। ড্রাইভিং লাইসেন্স মূলত দুইটি ক্যাটাগরির হয়ে থাকে পেশাদার ও অপেশাদার। আমরা যারা মোটার বাইক চালায় তারা সধারণত অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করায় আর যারা পেশা হিসেবে ড্রাইভিং বেচে নিয়েছেন তারা পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করায়। তবে আজকে আমদের মূল আলোচনার বিষয় হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স কি করে সহজেই করা যায়।

কারণ আমরা অনেকে আছি যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে করতে হয় তার সঠিক গাইড লাইন জানিনা। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করব।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার শর্তাবালী

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করতে হলে কিছু শর্তাবলী মেনে আবেদন করতে হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে তাই শর্তগুলো ভাল করে জেনে নিন,

* আবেদনেরকারী প্রার্থীর ছবি লাগবে যার সাইজ হতে হবে ১০০ কেবির মধ্যে।
* আবেদনকারীকে অব্যশই ডাক্তারী পরীক্ষায় উর্ত্তীন হইতে হইবে এবং তার সনদপত্র থাকতে হবে।
* জাতীয় পরিচয়পত্র ও ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি জমা দিতে হবে। যে গুলোর সাইজ হইবে ৬০০ কেবির মধ্যে।
* অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সময় ভুয়া তথ্য প্রদান করলে প্রার্থীর লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হইবে।

মূলত একজন প্রর্থীকে এই শর্তগুলো মেনে আবেদন করতে হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম দুইটি। অনলাইন ও অফলাইন এই দুই নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করা যায়। বর্তমানে অফলাইন থেকে অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার হার বেশি। তবে আজ আমরা দুইটি নিয়মের বিস্তারিত জানব।

অফলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম

অফলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার জন্য আপনাকে প্রথমে BRTA অনুমোদিত অফিসে যেতে হবে। বিআরটিএ অফিসে যার সময় সাথে করে আপনার এনআইডি / জন্ম নিবন্ধন / পাসপোর্ট কপি এবং দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে যেতে হবে। এখন BRTA অফিস থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফরম সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে পূরন করতে হবে। তারপর ব্যাংকে গিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি জমা দিয়ে টাকা জমার রশিদসহ আবেদন ফরম ও তার সাথে সাপোর্টিং ডকুমেন্টস সংযুক্ত করে বিআারটিএ অফিসে জমা দিন। তারপর আপনার আবেদন যাচাই বাছাই করে আপনাট লিখিত মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনি খুব দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। অফলাইনে এই নিয়মে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা হয়।

See also  সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার জন্য আপনাকে প্রথমে bsp.brta.gov.bd লিংক ব্যবহার করে বিআরটিএ ওয়েবসাইটে চলে যেতে হবে। তারপর আপনাকে বিআরটিএ এর ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট খোলতে হবে,

* একাউন্ট ওপেন করার জন্য নিবন্ধন অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনার এনআইডি নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিন এরপর যাচাই অপশনে ক্লিক করুন। এখন আপনার সামনে আপনার এনআইডির সকল তথ্য দেখাবে সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার মোবাইল নাম্বার ইমেইল ও একাউন্টটির নিরাপত্তা জন্য একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

* এখন আপনার একাউন্ট খোলা সম্পন্ন হলো তবে আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক যাবে ঐ ইমেইল থেকে ভেরিফিকেশন লিংকে ক্লিক করে আপনার একাউন্টটি ভেরিফাই করে নিন।

* তারপর আপনাকে আপনার একাউন্টে লগইন করতে হবে লগইন করার জন্য ইউজার নেম হিসেবে আপনার মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিন। তারপর লগইন এ ক্লিক করুন এবার আপনার ফোনে একটি ওটিপি যাবে এই ওটিপির পাসওয়ার্ড টি দিয়ে ওকে ক্লিক করুন তাহলেই আপনি বিআরটিএ ওয়েবসাইটে লগইন করতে পারবেন।

* তারপর Menu থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ক্লিক করুন তারপর শিক্ষানিবেশ ড্রাইভিং লাইসেন্সে ক্লিক করুন। এখন আপনার সামনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাবার শর্তসমূহ দেখাবে সবকিছু পরে আমি সম্মতে ক্লিক করুন।

* তারপর আপনার সামনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফরম চলে আসবে আবেদনের শুরুতে আপনাকে কোন ধরনের লাইসেন্স করবেন তা সিলেক্ট করে দিতে হবে। এখান থেকে পেশাদার অথবা অপেশাদার সিলেক্ট করুন। তারপর আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপলোড দিন।

* তারপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী কিছু তথ্য ফিলাআপ করা থাকবে যেগুলো ফিলআপ করা নেই সেইগুলো ফিলআপ করে দিতে হবে।

* তারপর আপনার লিঙ্গ সিলেক্ট করুন ও আপনার বৈবাহিক অবস্থা সিলেক্ট করুন।

* এখন আপনার পেশা, রক্তের গ্রুপ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান ঠিকানা অব্যশই ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে।

* তারপর আপনার স্থায়ী ঠিকানা দিন এবং আপনার জাতীয়তা সিলেক্ট করে দিন।

* এখন আবেদন কারীর যোগাযোগের বিবরণ এই ক্ষেত্রে আপনার ফোন নাম্বারটি দিয়ে দিন।

* তারপর জরুরি যোগাযোগের জন্য আপনার নিকট আত্নীয়ের কন্টাক্ট নাম্বার নামসহ দিন।

এখন আপনি আবেদন ফরমের সেকশন বি তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফিলাআপ করবেন,

* এখন আপনি যার কাছ থেকে ড্রাইভিং ট্রেনিং নিয়েছেন তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নাম্বার ইংরেজিতে দিন। ও আপনি কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে চান যদি অপশনে একাদিক অপশন থাকে তাহলে তা সিলেক্ট করুন।

* তারপর মোটরযানের শ্রেনী অপশনে যদি শুধু মটর সাইকেল হয় তাহলে মোটরসাইকেল আর যদি এসাথে প্রইভেট কারও হয় তাহলে লাইট। এই দুইটি অপশন সিলেক্ট করে দিন।

তারপর আপনাকে চলে যেতে হবে সংযুক্তি অপশনে। সংযুক্তি অপশন থেকে,

* মেডিকলে সার্টিফিকেট, এনআইডি কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করুন।

See also  ভোটার আইডি কার্ড চেক,Voter ID Card Check

* তারপর সব ডকুমেন্টস সংযুক্ত করার পর সংরক্ষণ করুন অপশনে ক্লিক করুন।

এখন আপনার সামনে সকল তথ্য পুনরায় দেখাবে সবগুলো ভাল করে চেক করে কোন ভুল হলে এডিট করতে পারবেন। আর সব ওকে থাকলে অনলাইনে ফি প্রদান অপশনে ক্লিক করুন।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি প্রদান

অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফি জমা দেওয়া যায়। অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফি জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন ফি প্রদান অপশনে ক্লিক করুন,

* তারপর আপনার সামনে নতুন একটি ইন্টারফেস ওপেন হয়ে যাবে এখানে আপনার ফোন নাম্বার দেখাবে ফোন নাম্বারটি ঠিক তাকলে এর পাশে ঠিক চিনহ তে ক্লিক করুন।

* তারপর নিচের দিকে চলে আসবেন এখানে আপনাকে মোটরসাইকেল ও লাইট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফি মোট ৫১৮ টাকা দেখাবে। এবং আপনি কিসের মাধ্যমে তা পরিশোধ করতে চান তা সিলেক্ট করতে পারবেন। ডিবিএল, সিটি ব্যাংক ও বিকাশ পেমেন্ট মেথড দেখতে পাবেন।

* তারপর আপনি যদি বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে চান তাহলে বিকাশ সিলেক্ট করে নিশ্চিত বাটনে ক্লিক করুন।

* তারপর বিকাশের একটি ইন্টারফেস আসবে এখানে আপনার বিকাশ একাউন্ট নাম্বার টি দিয়ে কনফার্মে ক্লিক করুন। এখন আপনার বিকাশ নাম্বারে একটি কোড যাবে ঐ কোডটি এখানে বসান। তারপর আপনার পিন নাম্বার দিয়ে আবার কনফার্ম করুন।

এবার আপনার পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে গেল।

পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনার আবেদন সঠিকভাবে জমা হয়ে গেছে এই রকম নটিফিকেশন উপরে দেখতে পাবেন। তারপর আবেদন ফরমটি ডাউনলোড অথবা প্রিন্ট করে নিন প্রিন্ট হেয়ার অপশনে ক্লিক করে এবং তার সাথে পেমেন্ট রিসিট প্রিন্ট করে নিন। এখন আপনার আবেদন ফরমে আপনার লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষা তারিখ ও স্থান দেখতে পাবেন। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আপনাকে ডকুমেন্টস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হইতে হবে।

ডাইভিং লাইসেন্সের জন্য কি কি পরীক্ষা নেওয়া হয়

ড্রাইভিং লাইসেন্সর জন্য তিনটি ধাপে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই তিনটি ধাপের পরীক্ষা শেষ করে একজন প্রর্থীকে সফল ভাবে পাশ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হয়। যে সকল পরীক্ষা গুলো দিতে হয় ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য,

১/ লিখিত
২/ ব্যবহারিক
৩/ ভাইভা

একজন প্রর্থীকে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত পরীক্ষা বাংলা ইংরেজি গণিত সাধারণ জ্ঞান ও ট্রাফিক বিষয়ে নানান প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। অন্য দিকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় মোটরযান চলানো ঠিক মতো পারেন কিনা তা দেখা হবে। সবশেষে ভাইভা পরীক্ষায় ট্রাফিক আইন ও বিভিন্ন ট্রাফিক চিন্হ সম্পর্কে জানতে চওয়া হয়। সবগুলো ধাপে সঠিকভাবে পাশ করতে পারলে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করতে কি কি লাগে

ড্রাইভিং লাইসেন্সর আবেদন করতে নিচের কাগজপত্র গুলো আবেদন ফরমেরস সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়,

* ইউটিলিটি বিলের ডকুমেন্টস
* জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি
* মেডিকেল সার্টিফিকেট মূল কপি
* শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র মুল কপি/ ফটোকপি

এই সকল কাগজ পত্র পরীক্ষার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে উপস্থিত হতে হয়।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page