প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার নিয়ম

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার নিয়ম

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার নিয়ম
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার নিয়ম

দারিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহয়তা ট্রাস্ট চালু করে। শিক্ষা সহয়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহয়তা বাবদ উপবৃত্তি বা বৃত্তি প্রদান করা হয়। আমাদের মধ্যে অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা টাকার অভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছেন না। তাদের জন্য মূলত প্রধানমন্ত্রীর এই প্রদক্ষেপ।

আমারা অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন কিভাবে করতে হয় জানিনা। তবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করা একদম সহজ। কারণ অনলাইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করা যায়। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করব।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট কি

গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করা হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫০০০ টাকা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮০০০ টাকা ও স্নাতক পর্যায়ে ১০০০ টাকা ভর্তি সহায়তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট উপবৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিতকরণে ভর্তি সহায়তা প্রদান করে। সর্বশেষ ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে ভর্তি সহায়তা বাবদ ৪৩,৭৬০০০ টাকা প্রদান করা হয়। ভর্তি সহায়তা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার শিক্ষাগত যোগ্যতা

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন মূলত তিনটি ক্যাটাগরির মাধ্যমে হয়ে থাকে। এই তিনটি ক্যাটাগরির আবেদনের জন্য তিন রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে,

* মাধ্যমিক ধাপে আবেদন করার জন্য নূন্যতম ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হওয়া লাগে।

* উচ্চ মাধ্যমিক ধাপে আবেদন করার জন্য নূন্যতম একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হওয়া লাগে।

See also  কোরবানির নাম দেওয়ার নিয়ম | কোরবানি কত জনে দেওয়া যায় | ভাগে কোরবানি দেওয়ার নিয়ম

* স্নাতক পার্যায়ে ধাপে আবেদন করার জন্য নূন্যতম স্নাতক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী হওয়া লাগে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করতে কি কি লাগে

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে উপবৃত্তি ও ভর্তি সহায়তার জন্য আবেদন করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসের প্রয়োজন পরে,

* শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়ন সুপারিশ ফরম।

* মা বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ।
* ছবি ও স্বাক্ষর।
* জন্ম নিবন্ধন সনদ।

এই ডকুমেন্টস গুলো প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার সময় লাগে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার নিয়ম

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি বা বৃত্তি পাওয়ার জন্য আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। আপনাদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অনলাইনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার ধাপসমূহ

অনলাইনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করতে যে সকল ধাপ পাড়ি দিতে হয়,

* প্রত্যয়ন পত্রে সুপারিশ গ্রহণ করা।
* pmeat gov bd ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করা।
* মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করা।
* pmeat gov bd ওয়েবসাইটে লগইন করা।
* আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করা।
* আবেদন ফরম পূরণ করা।
* তথ্য পরিবর্তন করা।
* সুপারিশ প্রত্যয়ন আপলোড করা।
* আবেদন পত্র পিডিএফ ডাউনলোড করা।

এই ধাপ গুলো স্টেপ বাই স্টেপ অনুসরন করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করতে হয়।

প্রত্যয়ন পত্রে সুপারিশ গ্রহণ করা

প্রথমে এই লিংকে https://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission/ ক্লিক করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে আবেদন করার প্রত্যয়ন পত্রটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। তারপর ফরম টি প্রিন্ট করে সকল তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। তারপর প্রত্যয়ন পত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক সুপারিশ নিতে হবে এবং প্রত্যয়ন পত্র টি নিজের কাছে সংগ্রহ করতে হবে।

pmeat gov bd ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করা

pmeat gov bd ওয়েবসাইট বা প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য https://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission/ এই লিংকে প্রবেশ করে Manu থেকে রেজিষ্ট্রেশনে ক্লিক করুন। রেজিষ্ট্রেশন ফরমে প্রথমে নাম, অবিভাবকের নাম, জন্ম নিবন্ধনের ১৭ ডিজিট নম্বর, জন্ম তারিখ, জেন্ডার, স্থায়ী ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য ইমেইল, মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড এগুলো সঠিকভাবে পূরন করে আমি রোবট নয় এই বাটনে ক্লিক করে সবশেষে নিবন্ধন করুনে ক্লিক করুন।

মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করা

তারপরের ধাপে আপনার প্রদত্ত মোবাইল নাম্বার টি ভেরিফিকেশন করতে হবে। এ জন্য আপনার নাম্বারে একটি ওটিপি কোড পাঠানো হবে ঐ ওটিপি টি ইনপুট দিয়ে আমি রোবট নয় ক্লিক করে জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন তাহলেই আপনার একাউন্টি একটিভ হয়ে যাবে।

See also  মোবাইল নাম্বার দিয়ে ফেসবুক আইডি বের করা

একাউন্ট একটিভ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের ভাল করে ছবি তুলে রাখুন।

pmeat gov bd ওয়েবসাইটে লগইন করা

এই ধাপে আপনাকে https://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission/ লিংকে ক্লিক করে একাউন্টে লগইন করতে হবে। আপনার একাউন্টে লগইন করার জন্য প্রথমে আপনার রেজিস্ট্রার মোবাইল নাম্বার বা ইমেইল আইডি দিন তারপর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন বাটনে ক্লিক করুন।

আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড করা

সফল ভাবে একাউন্টে লগইন করার পর আবেদন করুনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার সামনে নতুন একটি ইন্টারফেস ওপেন হবে। এখানে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস আপলোড দিতে হবে। আবেদন কারী শিক্ষার্থীর ছবি, স্বাক্ষর, জন্ম নিবন্ধন এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র সিলেক্ট করে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন।

আবেদন ফরম পূরণ করা

এই পর্যায়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সঠিকভাবে আবেদন ফরম পূরণ করার জন্য শরুতে, বিজ্ঞপ্তি নম্বর, শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম নিবন্ধন নাম্বার অটোমেটিক দেয়া থাকবে। এখন নিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে), নিক্ষার্থীর পিতার নাম, পিতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মাতার নাম,
মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নিক্ষার্থীর জন্ম তারিখ, জেন্ডার, বিভাগ, জেলা, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/উপজেলা (যে কোন একটি বাছাই করুন)
পৌরসভা/উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রামের নাম লিখতে হবে।

তারপর অভিভাবক তথ্যের অংশে শিক্ষার্থী যদি কোন কোটায় আবেদন করে তাহলে তা উল্লেখ করতে হবে সেই সাথে অভিভাবকের পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জমির পরিমান, বার্ষিক আয় এবং পরিবারে সদস্য সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে।

তারপর ভর্তি কৃত প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিতে হবে। এই ক্ষেত্রে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, শিক্ষা স্তর, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নাম্বার, সর্বশেষ পঠিত শ্রেনী, জিপি স্কেল সহ জিপিএ উল্লেখ করতে হবে।

তারপর আবেদন ফরম পূরনের শেষ দিকে মোবাইল একাউন্ট নম্বর প্রদান করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আবেদনেকারী যার একাউন্ট নম্বর প্রদান করছে তার সাথে কি সম্পর্ক তা উল্লখ করতে হবে। আপনি চাইলে মোবাইল ব্যাংকিং বাদে সাধারণ ব্যাংকিং ও দিতে পারেন। সবকিছু কম্পিলিট হয়ে গেলে এবার সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করে দিন।

তথ্য পরিবর্তন করা

এই পর্যায়ে সরবরাহকৃত সকল তথ্য আপনার সামনে দেখানো হবে এখন ভাল করে দেখুন যদি কোথাও কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে ইডিট বাটনে ক্লিক করে পূণরায় তথ্য পরিবর্তন করুন আর সব কিছু ঠিক থাকলে সংরক্ষণ এ ক্লিক করুন।

সুপারিশ প্রত্যয়ন পত্র আপলোড করা

এই ধাপে আপনাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রদান কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র আপলোড দিন তারপর আবার সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন।

আবেদন পত্র পিডিএফ ডাউনলোড করা

প্রতয়ন পত্রের সুপারিশ আপলোড করার মাধ্যমে আপনার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহয়তা ট্রাস্টে উপবৃত্তি বা ভর্তি সহায়তার আবেদন সম্পন্ন হয়ে যাবে। এখন আপনার কাজ হলো আবেদন পত্রটি পিডিএফ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নেয়া। এখন পরবর্তীতে আপনি সিলেক্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। কারণ এই পর্যায়ে আপনার আবেদন টি যাচাই-বাছাই করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে ভর্তি সহায়তা প্রাপ্তির সময়সীমা

আবেদনের প্রাপ্তির ০৪-০৬ মাস পর অর্থ প্রেরণ করা হয়।
শিক্ষার্থী ভর্তি সহায়তার নির্বাচিত হলে আবেদন কারীর মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page