বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম
বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ তাদের গ্রাহকদের ব্যবসায়িক পেমেন্ট নেওয়ার একটি মেথড নিয়ে এসেছে যাকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট বলে। বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট তাদের জন্য যাদের নিজস্ব একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তারা প্রতিনিয়ত কাস্টমারদের থেকে বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট নিয়ে থাকে। বিকাশ পারসোনাল একাউন্টের মাধ্যমে যে কন ধরনের পেমেন্ট নেয়া অনেকটা ঝুকিপূর্ণ কারণ এর জন্য অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয়। তবে আপনি যদি বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে লেনদেন করেন তাহলে আপনি ও আপনার কাস্টমারের অতিরিক্ত কোন খরচ হবে না। বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট সিস্টেম মূলত তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ব্যবসায়িকদের সুবিধা কথা মাথায় নিয়ে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট সম্পর্কে জানেন না। তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের সকল দিক নিয়ে আলোচনা করব। আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলবেন তা নিয়েও। তাই বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ পোস্ট টি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট কি

যে বিকাশ একাউন্ট দ্বারা ব্যবসায়িক লেনদেন করা যায় কোন রকম অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া সেই একাউন্ট কে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট বলা হয়। বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে যে কোন শপিং মলে বা সুপার শপে অথবা দোকানে বিকাশ পারসোনাল একাউন্ট থেকে পেমেন্ট করা যায়। বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টে পেমেন্ট করার জন্য অতিরিক্ত কোন চার্জ কাটা হয় না।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট এর সুবিধা

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে বাণিজ্যিক লেনদেন করা হয়ে থাকে। এই একাউন্টের নানা বিধ সুবিধা রয়েছে,

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টে লেনদেন করার ক্ষেত্রে কোন লিমিট নেয়।

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে যে কোন পরিমাণ টাকা রিসিভ করা যায়।

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে ব্যংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায়।

* জরুরি মুহূর্তে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে বিকাশ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট দেয়া যায়।

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে মোবাইল রিচার্জে কমিশন পাওয়া যায়।

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে পে বিলে কমিশন পাওয়া যায়।

এই সমস্ত সুবিধা গুলো বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে পাওয়া যায়।

See also  বাংলাদেশের সকল মোবাইল ব্যাংকিং লিস্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট এর অসুবিধা

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট এর সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে,

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে বিকাশ পারসোনাল একাউন্টে কোন লেনদেন করা যায় না।

* বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে বিকাশ এজেন্টে ক্যাশ আউট করা যায় না।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলতে কি কি লাগে

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসের প্রয়োজন হয়,

* একটি সচল মোবাইল ফোন নাম্বার।
* আপনার একটি নির্দিষ্ট দোকান।
* দোকানের ওয়েবসাইট যদি থাকে (অপশনাল)।
* তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
* জাতীয় পরিচয়পত্র / ড্রাইভিং লাইসেন্স
* পাসপোর্ট কপি
* দোকানের ট্রেড লাইসেন্স।

এই সমস্ত ডকুমেন্টস গুলো বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য লাগে।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা একদম সহজ একটি প্রক্রিয়া।বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দুইটি নিয়মে খোলা যায়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। যে দুইটি নিয়মে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা যায়,

১/ অনলাইনে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট
২/ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট

অনলাইনে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

অনলাইনে বর্তামনে অতি সহজেই বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা যায়। অনলাইনের মাধ্যমে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য https://www.bkash.com/business/merchant এই লিংকে প্রবেশ করুন।

* তারপর নিচের দিকে সাইনআপ অপশন থেকে সম্পূর্ণ ফরম টি ভালভাবে পূরণ করুন।

* প্রথমে আপনার দোকানের নাম দিন।
* তারপর আপনার জেলার নাম।
* তারপর আপনার এলাকার নাম দিন।
* তারপর যোগাযোগ করবেন যার যাথে এখানে একজনের নাম দিন।
* তারপর আপনার মোবাইল নাম্বার দিন।
* তারপর ইমেইল আইডি দিন।
* এবার অতিরিক্ত কোন তথ্য দিতে চাইলে দিন।

এখন নিচের দিকে চলে আসুন এবং নিচের থেকে আরো কিছু তথ্য দিন।

আপনার কি জাতীয় পরিচয়পত্র আছে?
তাকলে হ্যা সিলেক্ট করুন।

আপনার কি বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আছে?
যদি থাকে তাহলে হ্যা আর না থাকলে না সিলেক্ট করুন।

* এখন আপনার ট্রেড লাইসেন্স নাম্বার দিন।

* তারপর আপনার ট্রেড লাইসেন্সের ট্রেড লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দিন।

* তারপর আপনার ব্যাংক একাউন্ট সিলেক্ট করে দিন।

* তারপর ক্যাপচা পূরণ করুন।

সবকিছু হয়ে গেলে এবার আপনি জমা দিন বাটনে ক্লিক করে আপনার আবেদন টি জমা দিয়ে দিন। আপনার আবেদন জমা হয়ে গেলে বিকাশ কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে খুব শীঘ্রই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এই নিয়ম অনুসরণ করে মূলত অনলাইনে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা হয়।

বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা যায়। বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলতে হলে আপনার নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে চলে যান। তারপর তারা আপনাকে একটি বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আবেদন ফরম দিবে ফরম টি ভালকরে পূরণ করুন। এবার বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট ফরমের সাথে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, মোবাইল নাম্বার, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার, ট্রেড লাইসেন্স কপি এই ডকুমেন্টস গুলো জমা দিন। এখন বিকাশ কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন টি যাচাই বাছাই করবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ দিনের মধ্যে আপনার আবেদন টি গৃহীত হলে আপনাকে বিকাশ মার্চেন্ট সিম বিকাশের এজেন্ট দিয়ে যাবে।

See also  সহজে রকেট মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

এই নিয়ম অনুসরণ করে বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলা যায়।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট এর লিমিট

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন করার জন্য কেন রকম লিমিট নেয়। আপনি চাইলে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে Unlimited লেনদেন করতে পারবেন। তাই বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কোন রকম লিমিট ছাড়া লেনদেন করা।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট ক্যাশ আউট লিমিট

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ক্ষেত্রে বিকাশ এজেন্ট বা কোন এটিএম বুথের মাধ্যমে ক্যাশ আউট করা যায় না। আপনার বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টে প্রতি সপ্তাহে যে লেনদেন হবে তা সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে আপনার ব্যাংক একাউন্টে যুক্ত হয়ে যাবে। তারপর আপনি চাইলে যে কোন দিন সেই টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে কোন লিমিট নেই।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট ক্যাশ আউট চার্জ

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে কোন ধরনের ক্যাশ আউট দেয়া যায় না তবে আপনি চাইলে ব্যাংক ট্রান্সফার করে লোকাল ব্যাংকের মাধ্যমে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের টাকা উইথড্র দিতে পারবেন এই জন্য আলাদা কোন চার্জ দিতে হবে না। বিকাশ মার্চেন্ট থেকে এজেন্ট নম্বারে ১৫ টাকা হাজারে ক্যাশ আউট দেয়া যায়।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট সেন্ট মানি লিমিট

সত্যি কথা বলতে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে বিকাশ পারসোনাল একাউন্টে কোন ধরনের সেন্ট মানি করা যায় না। তবে আপনি চাইলে বি টু বি পদ্ধতিতে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে অন্য বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টে সেন্ট মানি করতে পারবেন এই ক্ষেত্রে কোন লিমিট নেই।

বিকাশ মার্চেন্ট কমিশন

আপনার যদি একটি বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট থাকে তাহলে বিকাশ কর্তৃপক্ষ সেই একাউন্টের লেনদেনের জন্য বিভিন্ন সময় কমিশন অফার দিয়ে থাকে। তাছাড়া বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট দিয়ে মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা রিচার্জে ১০ টাকা কমিশন পাওয়া যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পে করে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে কমিশন পাওয়া যায়। তবে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টে আপনার কেমন লেনদেনে কেমন কমিশন পাবেন তার অফার বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপসে দেখতে পারবেন।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট লগইন

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট লগইন করতে হলে বিকাশ মার্চেন্ট মোবাইল অ্যাপস টি আপনার ফোনে ডাউনলোড করে নিন। তারপর বিকাশ মার্চেন্ট অ্যপস টি ইনস্টল করে ওপেন করুন। এবার আপনার বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট নাম্বার ও পিন দিয়ে লগইন করে ফেলুন আপনার বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টটিতে।

বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপস ডাউনলোড করার উপায়

বিকাশ মার্চেন্ট মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করার জন্য আপনার মোবাইল থেকে Google paly store গিয়ে সার্চ করুন BKash Merchant লিখে তারপর বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপস টি আপনার সামনে দেখাবে এখন আপনি Install বাটনে ক্লিক করে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপসটি ডাউনলোড করে নিন।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page