মাতৃত্বকালীন ভাতা কিভাবে পাওয়া যায় ২০২৩, মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা

মাতৃত্বকালীন ভাতা কিভাবে পাওয়া যায় ২০২৩, মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা

মাতৃত্বকালীন ভাতা বা গর্ভবতী ভাতা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাজসেবা মূলক প্রজেক্ট। মাহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে এই ভাতা দেওয়া হয়। আপনি যদি বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হউন তাহলে আপনি শর্তাসাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য নির্বাচিত হতে পারবেন। তবে সবাইকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হয় না নির্দিষ্ট মাপকাঠির মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ভাতার সেবা গ্রহীতা নির্বাচন করা হয়। আজ আমরা কথা বলবো মাতৃত্বকালীন ভাতা কিভাবে পাওয়া যায় এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার পরিমানে কত টাকা এই সম্পর্কে। তাই মাতৃত্বকালীন ভাতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

মাতৃত্বকালীন ভাতা কিভাবে পাওয়া যায় ২০২৩, মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা
মাতৃত্বকালীন ভাতা কিভাবে পাওয়া যায় ২০২৩

গর্ভবতী ভাতা বা মাতৃত্বকালীন ভাতা কি

মাতৃত্বকালীন সময়ে বা বাচ্চা জন্মগ্রহণ করার পর বাচ্চা লালন পালন করা এবং বাচ্চা ও মায়ের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কতৃক যে ভাতা প্রদান করা হয় সেই ভাতাকে গর্ভবতী ভাতা বা মাতৃত্বকালীন ভাতা বলা হয়।

গর্ভবতী ভাতা বা মাতৃত্বকালীন পাওয়ার শর্তাবালী

আপনি কেবল গর্ভবতী হলেই মাতৃত্বকালীন ভাতা পাবেন না। মাতৃত্বকালীন ভাতা নিশ্চিতের জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে।

মাতৃত্বকালীন ভাতা পাবার জন্য আপনাকে অব্যশই দরিদ্র পরিবারে হতে হবে। শুধুমাত্র বাড়ি ছারা অনান্য ধানী বা পকুরের জমি থাকলে মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়া যাবে না। তাছাড়া আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সর্বনিম্ন ২০ বছর। মাসিক আয় ১৫০০ টাকার নিচে হতে হবে। আবেদন করার সময় অবশ্যই গর্ভবতী উপস্থিত থাকতে হবে। মাতৃত্বকালীন ভাতা শুধুমাত্র প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তানের গর্ভধারনের সময় পাওয়া যাবে। তবে যদি প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তান জন্মের দুই বছরের মধ্যে মারা যায় তাহলে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়া যাবে।

একজন ব্যক্তি জীবনে একবার দুই বছরের জন্য এককালীন মাতৃত্বকালীন ভাতা পাবে। তবে দুই সন্তানের ক্ষেত্রে এককালীন ৩ বছরের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়া যাবে।

See also  ভোটার আইডি কাড দেখার নিয়ম

মাতৃত্বকালীন বয়সসীমা কত

মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। তাই যে সমস্ত মায়েরা মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করবেন তারা খেয়াল রাখবেন যে বয়স ২০-৩৫ বছরের মধ্যে হয়।

গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার নিয়ম

মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং গর্ভবতী ভাতা দুটি একই জিনিস। মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন যে প্রক্রিয়ায় করা হয় ঠিক সেই একই নিয়মে গর্ভবতী ভাতার আবেদন করা হয়। তাই বলা যায় মাতৃত্বকালীন ভাতা ও গর্ভবতী ভাতা দুইটি এক জিনিস।

গর্ভবতী ভাতার জন্য কি কি প্রয়োজন

মাতৃত্বকালীন ভাতা বা গর্ভবতী পাওয়ার জন্য যা প্রয়োজন হয় তা হলো,

  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রদত্ত সনদ।
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত গর্ভকালীন সনদ।
  • টাকা গ্রহণ করার মাধ্যম ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, নগদ বা রকেট নাম্বার।
  • জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য এই সমস্ত কাগজ পত্রের প্রয়োজন পরে।
  • মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইনে আবেদন

মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য বর্তামনে অনলাইনে আবেদন করা যায়। অতি সহজেই অনলাইনে আবেদন করার ফলে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলা কমেছে। নিচে মাতৃত্বকালীন ভাতার অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অনলাইনে গর্ভবতী কার্ড করার নিয়ম

মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং গর্ভবতী কার্ড দুইটি একি জিনিস হওয়ায়। অনলাইনে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন যে প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হয়। ঠিক একই নিয়মে গর্ভবতী কার্ডের আবেদন করা হয়। নিচে অনলাইনে গর্ভবতী কার্ডের আবেদন নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনাকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে http://103.48.16.6:8080/LM-MIS/applicant/onlineRegistration এই লিংক ব্যবহার করুন। তারপর নিজ তথ্য ঠিকানা, কোন অর্থ বছরে আবেদন করতে চান তা সিলেক্ট করে আবেদন করুন। নিচে অনলাইনে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন কারার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন ও আবেদনেকারীর তথ্য দিন

প্রথমে আপনি মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করুন।তারপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যপূরণ করুন। যেমন, নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার, জন্মস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল নং ইত্যাদি পূরুন করুন। তার সাথে যে অর্থ বছরে আবেদন করবে তা উল্লেখ করুন এবং অন্য কোন ভাতা পান কিনা তা আবেদনে উল্লেখ করুন।

বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করুন

মাতৃত্বকালীন ভাতার এই ধাপে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করতে হবে। বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা যদি এক হয় তাহলে স্থায়ী ঠিকানার ঘরে as a same present address এ ক্লিক করলেই হবে। তাহলে নতুন করে আর কোন স্থায়ী ঠিনা দিতে হবে না। অন্যতাই বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা উভয় উল্লেখ করে দিতে হবে।

See also  পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ

আর্থ সামাজিক তথ্য প্রদান করা

এই ধাপে আবেদনকারীর আর্থ সামাজিক অবস্থার তথ্য প্রদান করতে হবে। এই ক্ষেত্রে প্রথমে পারিবারিক আয়ে উৎস সিলেক্ট করতে হবে। কৃষি জমি, পুকুর আছে কিনা তার তথ্য দিতে হবে এবং থাকার জায়গা আছে কি না তা উল্লেখ করতে হবে। তারপর নিচের ধাপে চলে যেতে হবে।

পেমেন্টের তথ্য প্রদান করা

এই ধাপে আপনি মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা কিসের মাধ্যমে নিতে চান তা উল্লেখ করে দিতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং হলে আপনার মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট নাম্বার দিতে হবে। অন্যদিকে ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে চাইলে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দিতে হবে। তারপর যখন মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হবে। তখন মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আপনার দেয়া ব্যাংক একাউন্ট নাম্বারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ছবি, স্বাক্ষর প্রদান করুন

এই ধাপ হলো মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রদানের সর্বশেষ ধাপ। এই ধাপে আপনাকে আপনার ছবি এবং স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। আপনার ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড দেওয়ার পর সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক ররুন। তাহলে আপনার আবেদনটি নির্দিষ্ট সার্ভারে জমা হয়ে যাবে। এখন আবেদন ফরম টি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভার অফিসে জমা দিন তারপর আপনার আবেদনটি যাচাই বাছাই করে আপনি মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য নির্বাচিত হলে ফোন করে আপনাকে জানিয়ে দিবে।

মূলত এই নিয়ম অনুসরণ করে মাতৃত্বকালীন ভাতা বা গর্ভবতী ভাতার আবেদন করা হয়।

মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা

মাতৃত্বকালীন ভাতা টাকার পরিমানে হিসাব করলে বলা চলে প্রতি মাসে ৮০০ টা হারে বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হয়। তবে এই টাকা প্রতি মাসে না দিয়ে ৬ মাসে এককালীন ৪৮০০ টাকা দেওয়া হয়। এইভাবে মোট দুই বছরে ১৯২০০ টাকা দেওয়া হয়।

তবে যারা দুই সন্তানের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা পান তারা মোট ৩৬ মাসের পরিমান ভাতা পায়। সে ক্ষেত্রে ৩ বছরে মোট ২৮৮০০ টাকা পাওয়া যায়।

মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২২-২০২৩ কত টাকা

মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২২ – ২০২৩ অর্থ বছরে ভাতার পরিমান প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে তবে এই ভাতা সবসময় পরিবর্তনশীল সরকার চাইলে যে কোন সময় ভাতার পরিমান বৃদ্ধি করতে পারে। তাই বলা চলে মাতৃত্বকালীন ভাতার নির্দিষ্ট কোন পরিমান নেই ইহা সর্বদা পরিবর্তনশীল।

গর্ভবতী ভাতা কত টাকা দেওয়া হয়

গর্ভবতী ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা এক জিনিস হওয়ায় গর্ভবতী ভাতার পরিমান মাতৃত্বকালীন ভাতা পরিমান এক। অর্থাৎ, গর্ভবতী ভাতাও মাসে ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়। তাই সকলের জানার সুবিধার জন্য আবার বলা হলো গর্ভবতী ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা এক জিনিস।

মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন ফরম

মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি অফলাইনেও নির্দিষ্ট ফরমে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করা যায়। নিচে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন ফরম উল্লেখ করা হলো।

মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন ফরম ছবি
মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন ফরম ছবি

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page