সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায়

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার নিয়ম

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার নিয়ম
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার নিয়ম

জাপান পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর শান্ত ও সূর্যধয়ের দেশ। জাপানে কাজের পরিবেশ অনান্য দেশের তুলনায় অনেক ভাল। জাপানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। তখন জাপান সরকারের সাথে কর্মী প্রেরনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কেয়ার ওয়ার্কার, বিল্ডিং ক্লিনিং ব্যবস্থাপনা, মেশিন পার্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইলেকট্রিক, ইলেক্ট্রনিক্স, কন্সট্রাকশন, জাহাজ শিল্প, অটোমোবাইল, কৃষিসহ জাপানের ১৪টি খাতে বিশেষভাবে দক্ষ এবং জাপানি ভাষায় পারদর্শী কর্মীদের নিয়োগ দেবে জাপান। বর্তমানে এই সমস্ত খাতে বিনা টাকায় সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিচ্ছে জাপান।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, বিএমইটির মাধ্যমে জাপানে কর্মী পাঠানো হয়ে থাকে। জাপানের বেতন কাঠামো বিশ্বের অনান্য শ্রমবাজারের তুলনায় অনেক ভাল। জাপানে যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো জাপানি ভাষা শিক্ষা। কারণ ভাষা শিখা ছাড়া জাপানে যাওয়া যায় না। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব।

সরকারিভাবে জাপান যেতে কি কি লাগে

সরকারিভাবে জাপান যেতে হলে আপনার থাকতে হবে,

* উচ্চতা ১৬০ সেন্টিমিটার।
* আপনাকে এসএসসি পাশ হতে হবে।
* জাপানের ভাষাগত দক্ষতা লেভেল N5 সম্পন্ন করতে হবে।
* আপনার বয়স হতে হবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে।
* আপনাকে বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্টেধারী হতে হবে।

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার সুবিধা কি

আপনি সরকারিভাবে জাপান গেলে যে সমস্ত সুবিধা গুলো পাবেন,

* একটানা ৫ বছর কাজ করার সুবিধা।
* উচ্চ বেতনে চাকরি।
* কাজের পরিবেশগত নিরাপত্তার।
* থাকার জন্য উন্নত মানের আবাসস্থল।
*সরকারি খরচে ফ্রিতে জাপান যাওয়া যায়।

জাপানি ভাষা কোথায় শিখবেন

বর্তমানে বাংলাদেশ Technical Training Centre(TTC) এর মাধ্যমে জাপান যাওয়ার জন্য জাপানি ভাষা Level N5 কোর্স চলু আছে। টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে জাপানের ভাষা শিখা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার রয়েছে যারা জাপানের ভাষা শিখিয়ে থাকে।

জাপানের ভাষা শিখতে কত টাকা লাগে

Technical Training Centre(TTC) থেকে জাপানের ভাষা শিখতে ভর্তি ফি ব্যতিত কোন টাকা লাগে না সরকার যখন যা ভর্তি ফি নির্ধারণ করে সেই পরিমান টাকা লাগে তবে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে জাপানের ভাষা শিখতে ১০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিষ্ঠানভেদে ভাষা শিখার খরচ আরো বাড়তে পারে।

See also  স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায়

একদম বিনা পয়সায় সরকারি খরচে ভাল বেতনে জাপানে যেতে হলে আপনাকে কিছু ধাপ পার করে যেতে হবে যেটা অনেক লাম্বা একটা প্রসেস। নিচে এই সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সরকারিভাবে জাপান যেতে হলে,

১/ আপনাকে জাপানি ভাষা শিখতে হবে।
২/ Im Japan কর্তৃক BMET এর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
৩/ জাপানে যাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন।
৪/ গণিত ও জাপানি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা।
৫/ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা।
৬/ প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহন করা।
৭/ জাপানে কর্মী হিসেবে গমন করা।

উপরের সবগুলো স্টেপ পার করে আপনাকে জাপান যেতে হবে। এখন সবগুলো স্টেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় কি

সরকারিভাবে জাপান যেতে হলে নিজের ধাপগুলি মনযোগ সহকারে পড়ুন,

জাপানের ভাষা শিখা

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার প্রথম শর্ত হলো আপনাকে জাপানের ভাষা শিখতে হবে। এই জন্য Technical Training Centre(TTC) এর মাধ্যমে কম খরচে সরকারিভাবে জাপানের ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হবেন । অন্যদিকে যারা Technical Training Centre(TTC) তে জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হবার সুযোগ পাবেন না তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে জাপানের ভাষা শিখতে পারবেন।

Im Japan কর্তৃক BMET এর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার দ্বিতীয় ধাপ হলো Im Japan কতৃক Bmet এর মাধ্যমে জাপানে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করা। আইএম জাপানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিএমইটির ওয়েবসাইট এবং জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হলে আপনাকে ভাল করে পড়ে আবেদনের জন্য অগ্রসর হতে হবে।

জাপানে যাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন

আইএম জাপানের বিজ্ঞপ্তি পাবার পর বিএমইটির ওয়েবসাইট bmet.gov.bd এর মাধ্যমে জাপানে যাওয়ার আবেদন করতে হবে। এই জন্য অনলাইনে বিএমইটির ওয়েবসাইটে ডুকে জাপানে যাওয়ার আবেদন ফরম ডাউনলোড করে ফরম পূরণ করে বিএমইটি কর্তৃক নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে। তারপর প্রথমিকভাবে নির্বচিত প্রর্থীদের কে মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্র জানিয়ে দেওয়া হবে। এসএসএস প্রাপ্ত প্রর্থীরা নিচের ডকুমেন্টস গুলো নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।

জাপানে যাওয়ার আবেদনের সময় কি কি জমা দিতে হয়

জাপানে যাওয়ার আবেদন করার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিচের ডকুমেন্টস গুলো সহ উপস্থিত হতে হয়। আপনাকে যে যে ডকুমেন্টস গুলো সহ পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হইতে হবে,

See also  পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করবেন যেভাবে

*Level N5 বা জাপানী ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা সংক্রান্ত মূলসনদসহ ১ সেট ফটোকপি।

*সদ্যতোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

*এস.এস.সি মূল সনদপত্রসহ ১ সেট ফটোকপি।

*মূল জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (National ID) অথবা জন্ম সনদসহ (Birth Certificate)১ সেট ফটোকপি।

*জীবন-বৃত্তান্ত (Bio-data)।

গণিত ও জাপানের ভাষা দক্ষতার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা

এই ধাপে Im japan কর্তৃক গণিত এর উপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। গনিতের Exam শেষ হলে আইএম জাপানের অধীনে জাপানের ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হইবে। তাই যে সমস্ত প্রার্থী আবেদন করবেন তারা ভাল ভাবে জাপানের ভাষা শিখে জাবেন। জাপানি ভাষা পারদর্শী পরীক্ষা শেষ হলে পরবর্তী ধাপে নিবে আপনাদের।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা

Im japan কর্তৃপক্ষ এবার আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পুশ আপ সিট আপ দৌড় এই ইভেন্ট গুলোতে অংশগ্রহণ করতে হয়। তাছাড়া দাত উচ্চতা শরীলে কোন দাগ আছে কিনা এগুলো দেখা হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়। সকল পরীক্ষা শেষ হলে এবার রেজাল্ট দেওয়া হয় রেজাল্টে যাদের নাম আসে তাদের ৬ মাসের প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহন করতে হয়। এই ট্রেনিং Im japn কর্তৃক BMET এর আন্ডারে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহন করা

এই পর্যায়ে বিএমইটির আন্ডারে আপনাকে প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ে ভর্তি হতে হবে। প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ে ভর্তি হবার পর আপনাকে বিএমইটির ট্রেনিং সেন্টারে ৬ মাসের প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং নিতে হবে। ৬ মাস পর আপনাদেকে এখান থেকে ধাপে ধাপে জাপান পাঠানো হবে।

প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ের খরচ কত

জাপানে যাওয়ার জন্য প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিয়ের সকল খরচ সরকার বহন করবে। প্রার্থীকে শুধু সেখানে খাওয়ার খরচ নিজের বহন করতে হয়। এর বাহিরে আর কোন খরচ নেই। তবে প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিংয়ে ভর্তি হওয়ার সময় বিএমইটিতে ১০০০ টাকা ভর্তি ফি জমা দিতে হয়।

জাপানে কর্মী হিসেবে গমন করা

সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার সর্বশেষ ধাপ হলো জাপানে কর্মী হিসেবে গমন করা। ৬ মাসের প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং শেষ করার পর নির্ধারিত ফ্লাইটে ধাপে ধাপে সকল প্রশিক্ষনার্থীদের জাপান পাঠানো হবে কাজের উদ্দেশ্যে।

সরকারিভাবে জাপান যেতে কত টাকা লাগে

সরকারিভাবে জাপান যেতে শুধুমাত্র পাসপোর্ট তৈরি, মেডিক্যাল ফি এবং বহির্গমন ছাড়পত্র সংক্রান্ত ফি কর্মীদের বহন করতে হয়। তার বাহিরে সকল খরচ সরকার বহন করে। তাই সরকারিভাবে যারা জাপান যাবেন তাদের ভালো ভাবে ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য বলা হলো।

জাপানে বেতন কত

জাপানে সরকারিভাবে গেলে সব মিলে ১.৫ লাখ থেকে ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়।

সরকারিভাবে জাপান যাওয়া সম্পর্কে সকল প্রশ্নের উত্তর

জাপানে কোন কাজের চাহিদা বেশি
জাপানে দক্ষ ও অদক্ষ সকল কাজের চাহিদা রয়েছে। তবে জাপানে কৃষি ও উৎপাদন খাতে কাজের চাহিদা বেশি।

বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে জাপান যেতে শুধু পাসপোর্ট ফি, বহির্গমন ছাড়পত্র ও মেডিকেল ফি দিলেই হয় বাকি সব খরচ সরকার বহন করে।

বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে কত সময় লাগে
বাংলাদেশ থেকে জাপান যাওয়া একটি লং প্রসেস তাই মিনিমাম জাপানে যেতে ১ বছর সময় লাগে।

জাপান যেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা
জাপান যেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ লাগে।

জাপানে কাজের পরিবেশ কেমন
জাপানে কাজের পরিবেশ খুব ভাল। অনান্য দেশ থেকে জাপানে নিরাপদে কাজ করা যায়। জাপানের কাজের পরিবেশ অনেক উন্নত।

 

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page