স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়

স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়

Study in South Korea বাংলাদেশ থেকে অনেকের স্বপ্ন থাকে আসলে দক্ষিণ কোরিয়া গিয়ে পড়াশোনা করার। কারণ এশিয়ার অন্যতম সেরা সেরা ইউনিভার্সিটি গুলো দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত। তবে অনেকের ইচ্ছা থাকলেও সঠিক গাইড লাইনের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া গিয়ে পড়াশোনা করার উপায় বা প্রন্থা পাচ্ছেন না।

স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়
স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়

তাই আজ আমরা আলোচনা করব স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায় সম্পর্কে। কি প্রন্থা অবলম্বন করলে সহজেই স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যেতে পারবেন সেই সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সেরা শিক্ষা ব্যবস্থা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি বিশ্ব র্যাংকিয়ে আছে। উন্নত ল্যাব, মনোরম ক্যাম্পাস, বিভিন্ন প্রকার গবেষণার সুবিধা সেই সাথে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার মান সারা বিশ্বে রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসা কি

দক্ষিণ কোরিয়া ইউনিভার্সিটি গুলো প্রতি বছর বিদেশি স্টুডেন্টদের বিভিন্ন স্কলারশিপের আওতায় সে দেশে পড়াশুনা করার জন্য যে ভিসা প্রদান করে সেই ভিসাকে দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসা বলা হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্টুডেন্টরা দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমায় পড়াশুনার উদ্দেশ্যে।

স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশ থেকে সহজেই স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়া যায়। দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সহজ কিছু উপায় বা নিয়ম রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করলে দ্রুত সহজ সময়ের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়া যায়। নিচে স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায় বা নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার নিয়ম

  • প্রথমে আপনাকে পাসপোর্ট ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • তারপর আপনার ডকুমেন্টস গুলো ঠিক করতে হবে। এই ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ফরেন মিনিস্ট্রির ছাড়পত্র এগুলো জোগাড় করতে হবে।
  • তারপর আপনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিভার্সিটিতে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে।
  • তারপর আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স মেডিকেল ফিট সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে।
  • তারপর আপনাকে টিউশন ফি জমা দিতে হবে।
  • এবার আপনাকে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া এমবাসি ফেস করতে হবে।
  • তারপর যদি আপনার ভিসা হয় তাহলে আপনার বিমানের টিকেট প্লাস টুকিটাকি শপিং করা লাগলে করতে হবে।

মূলত এই নিয়ম অনুসরণ করে স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়া যায়।

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় আসার শর্তসমূহ

আপনি যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে চান তাহলে আপনাকে অব্যশই তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার উপায়ের তিনটি শর্ত হলো।

  1. শিক্ষাগত যোগ্যতা
  2. ভাষাগত দক্ষতা
  3. ব্যাংক স্টেটমেন্ট
See also  দক্ষিণ কোরিয়া লটারি আবেদন ২০২৩ ঘোষণা, কোরিয়া লটারি সার্কুলার ২০২৩

এই তিনটি শর্ত মানতে পারলে আপনি দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় পড়তে যেতে পারবেন। নিচে এই তিনটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আসার জন্য আপনাকে কমপক্ষে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস হতে হবে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া পড়াশোনা করার জন্য শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পাশ হলেই হবে না। আপনাকে কমপক্ষে উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ২.৮০ পয়েন্ট অর্জন করে পাশ করতে হবে। তাহলে আপনি দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভাষাগত দক্ষতা

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা লাগে। এই জন্য আপনাকে দুইটা মেথট দেওয়া হবে পড়াশোনার জন্য। ইংলিশ মিডিয়াম পড়াশোনা অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষায় পড়াশোনা। এই দুইটি মাধ্যমের জন্য আলাদ আলাদ স্কোর থাকতে হবে আপনার ভাষাগত দক্ষতার উপর। ইংরেজির জন্য আইইএলটিএস এবং দক্ষিণ কোরিয়া ভাষার জন্য টপিক।

আইইএলটিস স্কোর

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে মিনিমাম আইইএলটিএস স্কোর থাকতে হবে ৫.৫ পয়েন্ট। এর নিচে হলে আপনি দক্ষিণ কোরিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। তবে আপনার আইইএলটিএস স্কোর যদি ৫.৫ এর উপরে থাকে তাহলে আপনি স্কোর অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশিপ পাবেন।

টপিক টেস্টের ক্ষেত্রে

আপনি যদি দক্ষিণ কোরিয়ায় কোরিয়ান ভাষায় পড়াশোনা করতে চান। তাহলে আপনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষার উপর টপিক কোর্সে মিনিমাম টপিক লেভেল ৩ পাশ করে যেতে হবে। তবে ইউনিভার্সিটি ভেদে টপিক লেভেল ৪ চাওয়া হয়। তাই আপনারা যারা কোরিয়ান ভাষায় পড়াশোনা করবেন বলে ঠিক করেছেন তারা বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা টপিক লেভেল ৪ কমপ্লিট করে দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে বলা হইল।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে হলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ ফুলফিল ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া সরকার স্টুডেন্ট ভিসা দেয় না। তাই দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার জন্য আপনাকে কমপক্ষে ১৮০০০ হাজার ডলার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে। যা বাংলাদেশি টাকায় ১৬-১৮ লাখ টাকা প্রায় হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্টের ক্ষেত্রে অব্যশই চলিত হিসাব ধরা হবে। এই ক্ষেত্রে কোন রকম এফডিআর বা অন্য কোন ডিপিএস দেখালে হবে না। তাই চলিত হিসবের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৮ লাখ টাকা দেখাতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য বাবা মায়ের ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট থাকলেই হবে।

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসা খরচ

দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে আপনাকে প্রথমে পাসপোর্ট + আইইএলটিএস অথবা টপিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে যার ফি গুলো আপনার বহন করতে হবে।

তারপরের কাজ হলো ফরেন মিনিস্ট্রি, নটারি ও এমবাসি থেকে কাগজপত্র এটাস্ট করানে এগুলো করাতে যাতায়াত ভাড়া বাবদ ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

See also  দক্ষিণ কোরিয়া লটারি আবেদনের জন্য কি কি যোগ্যতা লাগে

তারপরের কাজ হলো ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা। এই ক্ষেত্রে আবেদন করতে ইউনিভার্সিটি ভেদে ৬-১০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

তারপর আপনার সকল কাগজপত্র সম্পন্ন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি করার জন্য আরো ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

তারপরের কাজ হলো ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি দেয়া এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তবে ২৫০০ ডালার হতে পারে টিউশন ফি যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২.৫ লাখ টাকা।

তারপর হচ্ছে ভিসার জন্য এমবাসি ফেস করা এই ক্ষেত্রে এমবাসি ফি হিসেবে ৬০০০ টাকা জমা দিতে হয়।

এখন যদি আপনার ভিসা হয় তাহলে আপনার আপনার শপিং বিমান ভাড়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া বাড়ি ভাড়া প্লাস কিছু দিন থাকার জন্য যে পরিমান টাকা প্রয়োজন তা নিয়ে যেতে হবে। এর বাহিরে স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যেতে অন্য কোন খরচ নেই।

সবমিলে স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চাইলে আপনি যদি সবগুলো কাজ নিজে করেন তাহলে ৬-৭ লাখ টাকা লাগবে আর যদি এজেন্সির মাধ্যমে করেন তাহলে ৮ লাখের মতো লাগবে।

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার সময়

দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিভার্সিটি গুলোতে মূলত দুইটি সেমিস্টারে ভর্তি নেওয়া হয়। প্রথম টি হলো মার্চ সেমিস্টার অন্যটি হলো সেপ্টেম্বর সেমিস্টার। তাই যারা মার্চ সেমিস্টারে আবেদন করবেন তারা ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট চেক করবেন। কারণ এই সময় গুলোতে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি তাদের ভর্তির আবেদন গ্রহন করে। আর সেপ্টেম্বর সেমিস্টারের ভর্তি আবেদন শুরু হয় জুলাই, আগস্ট, অক্টোবরের দিকে।

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় কি কাজ করা যায়

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায় না। আপনি যদি দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় যান তাহলে শুধু মাত্র আপনি সে দেশের রেস্টুরেন্টে কাজ করতে পারবেন। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার সকল ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের রেস্টুরেন্টে কাজ করার পারমিট দিয়ে থাকে। তবে অনেকেই অবৈধ ভাবে দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে ফেক্টরিতে কাজ করে যা সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ স্টুডেন্টদের ফ্যাক্টরির কাজের জন্য পারমিট দেওয়া হয়। আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়া গিয়ে ফ্যাক্টরির কাজ করেন তাহলে ইমিগ্রেশন পুলিশ ধরতে পারলে আপনার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

তবে আপনি দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে রেস্টুরেন্টে কাজ করে প্রতি ঘন্টায় ৭০০-৮০০ বাংলাদেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সারা মাসে আপনি দক্ষিণ কোরিয়ার রেস্টুরেন্টে কাজ করে যা ইনকাম করতে পারবেন তা দিয়ে সেখানের সকল খরচ মেটাতে পারবেন। সেইসাথে আপনার ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি দিতে পারবেন। মোট কথা দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়ায় পর আপনার বাংলাদেশ থেকে আর কোন টাকা নিতে হবে। আপনি সুন্দর একটি লাইফ লিড করতে পারবেন।

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কারণ

দক্ষিণ কোরিয়া স্টুডেন্ট ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পিছনে যে কারন গুলো থাকে তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো ফেক ব্যাংক স্টেটমেন্ট। তাই যারা বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিবেন তারা একটু ভাল করে যাচাই বাছাই করে নিবেন তা না হলে পরবর্তীতে ফেক ডকুমেন্টসের কারণে আপনার স্টুডেন্ট ভিসাটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

Sarker Tahsin

Hello friends, my name is Imon Miah, I am the Writer and Founder of this blog Infolinebd and share all the information related to Blogging, SEO, Internet, Sports news, Review, Make Money Online, News and Technology through this website. Know for infolinebd about

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page